VATax Advisory & Co.

মূসক রিটার্ন এখন প্রতি মাসে — কর মেয়াদ শেষের ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র, মূসক সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬

মূসক রিটার্ন এখন প্রতি মাসে: ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র — মূসক সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬

লেখক: খন্দকার মহসিন রাকিব, কর আইনজীবী, VATax Advisory & Co. · প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ · সর্বশেষ পর্যালোচনা: ১৪ অক্টোবর ২০২৬

মূসক রিটার্ন (দাখিলপত্র) এখন থেকে আবার প্রতিটি কর মেয়াদ শেষে, অর্থাৎ প্রতি মাসে, ১৫ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হবে। রাষ্ট্রপতি ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ (অধ্যাদেশ নং ৩৮, ২০২৬) জারি করেছেন, যা ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অধ্যাদেশটি মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪ সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপন করেছে এবং ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

অধ্যাদেশনং ৩৮, ২০২৬
সংশোধিত বিধানমূসক আইন ২০১২, ধারা ৬৪
কার্যকর১ অক্টোবর ২০২৬
সাধারণ সময়সীমাকর মেয়াদ শেষের ১৫ দিন
বর্ধিত সময়সীমা২০ দিন (নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান)
গেজেট প্রকাশ১৪ অক্টোবর ২০২৬
মূসক রিটার্ন এখন প্রতি মাসে — কর মেয়াদ শেষের ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র, মূসক সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬
মূসক ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬: দাখিলপত্র আবার মাসিক

সংক্ষেপে: কী বদলাল?

পূর্ববর্তী ধারা ৬৪ অনুযায়ী নিবন্ধিত ও তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা তিনটি কর মেয়াদ (ত্রৈমাসিক) শেষে একবার দাখিলপত্র পেশ করতেন। নতুন ধারা ৬৪ সেই ত্রৈমাসিক ব্যবস্থা তুলে দিয়ে প্রত্যেক কর মেয়াদের জন্য আলাদা দাখিলপত্র বাধ্যতামূলক করেছে। আইনে “কর মেয়াদ” বলতে সাধারণত একটি মাস বোঝায়, তাই কার্যত মূসক রিটার্ন আবার মাসিক হয়ে গেল। আগের বিধানের বিস্তারিত ব্যাখ্যা পড়ুন: মূসক আইনের ধারা ৬৪: দাখিলপত্র পেশ।

বিষয়পূর্ববর্তী ধারা ৬৪নতুন ধারা ৬৪ (অধ্যাদেশ ৩৮/২০২৬)
দাখিলের ভিত্তিপ্রতি তিন কর মেয়াদ (ত্রৈমাসিক)প্রত্যেক কর মেয়াদ (মাসিক)
সাধারণ সময়সীমামেয়াদ সমাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যেপ্রতি কর মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে
১৫তম দিন সরকারি ছুটিপরবর্তী কার্যদিবসপরবর্তী কার্যদিবস (অপরিবর্তিত)
সরকারি/আধা-সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বিমা, শূন্য রিটার্ন২০ দিনপ্রতি কর মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ২০ দিন
পরবর্তী কর মেয়াদের যেকোনো দিনে ঐচ্ছিক দাখিলছিলনতুন ধারায় নেই
জনস্বার্থে বোর্ড কর্তৃক সময় বৃদ্ধি (সুদ-জরিমানা ছাড়া)ছিলআছে — উপধারা (২)
সম্পূরক শুল্কের তথ্য দাখিলপত্রেছিলআছে — উপধারা (৩)
ইলেকট্রনিক দাখিল বাধ্যতামূলক করার ক্ষমতাছিলআছে — উপধারা (৪)

নতুন ধারা ৬৪-এর মূল পাঠ (গেজেট অনুযায়ী)

“৬৪। দাখিলপত্র পেশ।—(১) প্রত্যেক নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত বা নিবন্ধনযোগ্য বা তালিকাভুক্তিযোগ্য ব্যক্তিকে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রত্যেক কর মেয়াদের জন্য মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশ করিতে হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, ১৫ (পনেরো) তম দিবসে সরকারি ছুটি থাকিলে তৎপরবর্তী কার্যদিবসে দাখিলপত্র পেশ করিতে হইবে:

আরো শর্ত থাকে যে, কোনো সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বিমা এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ২০ (বিশ) দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশ করিতে পারিবে।

(২) এই ধারার অন্যান্য বিধানে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, জনস্বার্থে, বোর্ড, আদেশ দ্বারা, সুদ ও জরিমানা ব্যতীত, দাখিলপত্র পেশের সময়সীমা বৃদ্ধি করিতে পারিবে।

(৩) মূসক দাখিলপত্রে সম্পূরক শুল্ক পরিশোধের তথ্যাদি অন্তর্ভুক্ত করিয়া উক্ত দাখিলপত্র পেশ করিতে হইবে।

(৪) বোর্ড, আদেশ দ্বারা, কোনো নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে দাখিলপত্র পেশ বাধ্যতামূলক করিতে পারিবে।”

কার জন্য কত দিন?

১৫ দিন: সাধারণ করদাতা

সব নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তি, এবং যারা নিবন্ধন বা তালিকাভুক্তির যোগ্য কিন্তু এখনো নেননি, তাদের প্রতিটি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র দিতে হবে। ১৫তম দিন সরকারি ছুটি হলে পরের কার্যদিবসে দাখিল করা যাবে।

২০ দিন: নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও শূন্য রিটার্ন

  • সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা
  • ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠান
  • শূন্য (nil) রিটার্ন দাখিলকারী যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান

আইনজীবীর পর্যবেক্ষণ: ছুটির দিনে পরের কার্যদিবসের সুবিধাটি আইনের ভাষায় স্পষ্টভাবে “১৫তম দিবস”-এর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে। ২০ দিনের সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে ২০তম দিন ছুটি পড়লে কী হবে, তা ধারায় আলাদাভাবে বলা নেই। ঝুঁকি এড়াতে ২০তম দিনের আগের কার্যদিবসেই দাখিল সম্পন্ন করুন।

উদাহরণ: কবে দাখিল করবেন?

কর মেয়াদসাধারণ করদাতা (১৫ দিন)ব্যাংক/বিমা/সরকারি সংস্থা/শূন্য রিটার্ন (২০ দিন)
অক্টোবর ২০২৬১৫ নভেম্বর ২০২৬ (রবিবার)২০ নভেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার — আগেই দাখিল নিরাপদ)
নভেম্বর ২০২৬১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ (মঙ্গলবার)২০ ডিসেম্বর ২০২৬

অধ্যাদেশটি ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। জুলাই–সেপ্টেম্বর ২০২৬ সময়ের দাখিলপত্র কীভাবে দিতে হবে, সে বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কোনো ব্যাখ্যা বা আদেশ জারি হলে তা অনুসরণ করুন। অক্টোবর ২০২৬ কর মেয়াদ থেকে মাসিক দাখিল ধরে প্রস্তুতি নেওয়াই নিরাপদ।

অধ্যাদেশের গেজেট কপি

মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬, অধ্যাদেশ নং ৩৮ — বাংলাদেশ গেজেট ১৪ অক্টোবর ২০২৬, পৃষ্ঠা ১
বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ — পৃষ্ঠা ১
মূসক আইন ২০১২ এর ধারা ৬৪ প্রতিস্থাপন — দাখিলপত্র পেশের ১৫ ও ২০ দিনের সময়সীমা, গেজেট পৃষ্ঠা ২
ধারা ৬৪ প্রতিস্থাপন: দাখিলপত্র পেশ — পৃষ্ঠা ২

ব্যবসার জন্য এখনই করণীয়

  1. ক্যালেন্ডার হালনাগাদ করুন: প্রতি মাসের ১৫ তারিখ (অথবা আপনার প্রতিষ্ঠান ২০ দিনের সুবিধা পেলে ২০ তারিখ) মূসক দাখিলপত্রের নির্ধারিত দিন হিসেবে রাখুন।
  2. মাসিক হিসাব বন্ধ করুন: ক্রয় ও বিক্রয় হিসাব পুস্তক (মূসক-৬.১, ৬.২), চালানপত্র (মূসক-৬.৩) এবং ক্রেডিট/ডেবিট নোট প্রতি মাস শেষে মিলিয়ে নিন।
  3. উৎসে কর্তিত মূসক ও রেয়াত: প্রত্যর্পণ বা রেয়াতের দাবি প্রতি মাসের দাখিলপত্রে ঠিকভাবে দেখান; সার্টিফিকেট সংগ্রহে দেরি করবেন না।
  4. সম্পূরক শুল্ক: সম্পূরক শুল্ক প্রযোজ্য হলে তার পরিশোধের তথ্য একই মূসক দাখিলপত্রে দিন — আলাদা দাখিলের সুযোগ নেই।
  5. অনলাইন প্রস্তুতি: বোর্ড ইলেকট্রনিক দাখিল বাধ্যতামূলক করতে পারে; ই-ভ্যাট অ্যাকাউন্ট ও লগইন সচল রাখুন। দেখুন: e-VAT সিস্টেমে রিটার্ন এন্ট্রি।
  6. শূন্য রিটার্নও জমা দিন: কোনো লেনদেন না থাকলেও প্রতিটি কর মেয়াদে শূন্য দাখিলপত্র দিতে হবে (২০ দিনের মধ্যে)।
  7. বিলম্ব এড়ান: দেরিতে দাখিল করলে মূসক আইনের অধীনে জরিমানা ও সুদ আরোপের ঝুঁকি থাকে। বিস্তারিত: ধারা ৬৫: বিলম্বে দাখিলপত্র পেশ।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. মূসক রিটার্ন কি এখন প্রতি মাসে দিতে হবে?

হ্যাঁ। অধ্যাদেশ নং ৩৮, ২০২৬ অনুযায়ী প্রত্যেক কর মেয়াদের জন্য আলাদা দাখিলপত্র দিতে হবে, যা কার্যত মাসিক দাখিল।

২. মূসক দাখিলপত্রের শেষ তারিখ কবে?

কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে। ১৫তম দিন সরকারি ছুটি হলে পরবর্তী কার্যদিবস।

৩. কারা ২০ দিন সময় পাবে?

সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান।

৪. এই পরিবর্তন কবে থেকে কার্যকর?

অধ্যাদেশটি ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রণীত ও ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে গেজেটে প্রকাশিত হলেও ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

৫. এনবিআর কি সময়সীমা বাড়াতে পারে?

পারে। জনস্বার্থে বোর্ড আদেশ দিয়ে সুদ ও জরিমানা ছাড়াই দাখিলপত্র পেশের সময়সীমা বাড়াতে পারে।

৬. সম্পূরক শুল্কের জন্য কি আলাদা রিটার্ন লাগবে?

না। সম্পূরক শুল্ক পরিশোধের তথ্য মূসক দাখিলপত্রের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সূত্র

  • বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ — মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ (অধ্যাদেশ নং ৩৮, ২০২৬); bgpress.gov.bd
  • মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২, ধারা ৬৪ — bdlaws.minlaw.gov.bd
  • জাতীয় রাজস্ব বোর্ড — nbr.gov.bd

English summary: Bangladesh VAT returns are monthly again

The Value Added Tax and Supplementary Duty (Amendment) Ordinance, 2026 (Ordinance No. 38 of 2026), made by the President on 13 October 2026 and published in the Bangladesh Gazette on 14 October 2026, substitutes section 64 of the VAT and SD Act, 2012, with effect from 1 October 2026. VAT returns must now be filed for every tax period (monthly) within 15 days of the end of the period, instead of once every three tax periods. If the 15th day is a public holiday, the deadline moves to the next working day. Government, semi-government and autonomous bodies, banks, insurers and nil-return filers get 20 days. The NBR may extend the deadline in the public interest without interest or penalty, supplementary duty details must be included in the VAT return, and the NBR may make e-filing mandatory.

মাসিক মূসক রিটার্ন, রেয়াত ও এনবিআর কমপ্লায়েন্সে সহায়তা প্রয়োজন?
VATax Advisory & Co.-এর আইনজীবী দল আপনার প্রতিষ্ঠানের মাসিক দাখিলপত্র প্রস্তুত ও পর্যালোচনা করে দেবে।

পরামর্শ নিন মাসিক কমপ্লায়েন্স রিটেইনার

দাবিত্যাগ: এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মূল গেজেট, এনবিআরের সর্বশেষ আদেশ দেখুন বা পেশাদার পরামর্শ নিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top